চাঁদাবাজি, বিভিন্ন শোরুমে হামলা ও টেলিফোনে প্রাণ নাশের অব্যাহত হুমকির প্রতিবাদে এবং স্বস্তিতে ও নিরাপদে ব্যবসা করার পরিবেশ সৃষ্টির দাবীতে সারা দেশের গাড়ির শোরুম বন্ধ রেখে মানববন্ধন করি আমরা।
স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরেও ব্যবসায়ীদের এভাবে পথে নেমে আসা জাতির জন্য লজ্জাজনক। আমাদের প্রত্যাশা ছিল—অনাচার, বৈষম্য, শোষণ, নির্যাতন, গুম, খুন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিপরীতে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, সুষম বণ্টন, অর্থনৈতিক মুক্তি, মানবিক মূল্যবোধের একটি নিরাপদ স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের ৫৩ বছর পর আমরা প্রকৃত অর্থে কতটুকু পেরেছি—সে প্রশ্নটি সঙ্গত কারণেই এখন সামনে চলে আসে। প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির এ বিশাল ব্যবধান ক্রমশই আমাদেরকে হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আসলে বিবেকের স্বাধীন বিবেচনায় ন্যায় ও সুন্দরের প্রতিষ্ঠা আর অন্যায় ও অপকর্মের প্রতিরোধ করার সৎ সাহস আমাদের নেই। আমাদের সমাজে স্বাধীন চিন্তার মানুষ নিঃসংগ হতে হতে রেশম গুটির মতো আপন বৃত্তে বন্দি হয়ে গেছে। তার সম্প্রসারিত পুনরুজ্জীবনের শক্তি নেই। তাই কোনো আবেদনই তাকে আন্দোলিত করে না।
অল্প শিক্ষিত থেকে শুরু করে নোবেল বিজয়ী পর্যন্ত দেখলাম — আমাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। আমরা অন্ধকারেই রয়ে গেলাম।
আমাদের আর পিছনে তাকানোর সময় নেই।
সময় এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার।
একটা প্রচণ্ড মানসিক উত্থান এবং নিজের ভেতরে পরিবর্তন আনতে পারলেই একটা সুন্দর নতুন প্রজন্ম জন্মাবে—যারা এ দেশের মাটি ও মানুষে বিশ্বাস রেখে জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করবে।
তখন ব্যবসায়ীগণ তার ব্যবসা বন্ধ করে, শিক্ষকগণ শ্রেণীকক্ষ ছেড়ে রাস্তায় নামবেন না,
চারিদিকে জ্বলবে না দাউ দাউ করে আগুন। 🔥
